গভীর চিন্তাই বুদ্ধিদীপ্ত কাজের পূর্বশর্ত। যে কোনো কাজ প্রথমে চিন্তা হয়ে ব্রেইনে আসে ও ধীরে ধীরে কল্পনায় বেড়ে উঠে এবং পরে তা বাস্তবে রূপায়িত হয়। যে কাজের পেছনে চিন্তার গভীরতা যতখানি থাকে সে কাজের বহিঃপ্রকাশ তত সুন্দর হয়। আর সুন্দর কাজের ফলও আশাপ্রদ হয়। সূতরাং সফল হতে গভীরভাবে চিন্তা করে বুদ্ধিদীপ্ত কাজ করতে হবে। তাহলে কাজ করা লাগবে কম, কিন্তু অর্জন হবে বেশি। চিন্তার গভীরে যেতে, নীরবতা ও মেডিটেশন সব থেকে কার্যকরী উপায়। নিজেকে এই বলে প্রেরণা দিন যে-
আমি নিজের সঙ্গে একাত্ম হতে, দিনে দুবার নীরবতা ও নিজের ভেতরের বিশালতায় ডুব দেয়ার অভ্যাস করি। এর মাধ্যমে চিন্তার সকল স্তর অতিক্রম করে তার উৎসস্থল এর অভিজ্ঞতা পাওয়ার মাধ্যমে বুদ্ধিদীপ্ত কাজ করার কৌশল রপ্ত করি। এভাবে অল্প শ্রমে অধিক প্রাপ্তির দক্ষতা আমার সাফল্যের প্রধান সূত্র।
আমি স্বপ্নদ্রষ্টা। আমি বিজয়ী।
দিনের মূলভাব হিসেবে গভীর চিন্তা– বুদ্ধিদীপ্ত কাজ শব্দগুলোকে চেতনায় গ্রহণ করে টি-শার্টটি পরিধান করুন। এটি সারা দিন আপনাকে গভীর ভাবে চিন্তা করে বুদ্ধিদীপ্ত কাজ করার কথা বারবার মনে করিয়ে দেবে। এতে এ গুণগুলো ধীরে ধীরে আপনার মন ও মস্তিষ্কে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেবে। যা আপনাকে প্রাকৃতিক নিয়মে, পরিপূর্ণভাবে সফল হতে সাহায্য করবে।
গভীর চিন্তা একটি সুশৃঙ্খল মনের শিল্প। প্রত্যেকেরই এই ক্ষমতা আছে, কিন্তু এটি আমাদের চিন্তাশীল মনের আড়ালে থাকে। তাই একান্ত অনুশীলন ও অভ্যাস দ্বারা একে অর্জন করতে হয়।
এক কাঠ কাটার প্রতিষ্ঠানে প্রায় তিনবছর ধরে কাজ করে একজন দিনে যে পরিমাণ গাছ কেটে ট্রাকে তোলার উপযুক্ত করতে পারে, আরেকজন তিন মাস আগে যুক্ত হয়ে পারে তার তিনগুণ। তিন মাস পর নতুন ব্যক্তিটির প্রমোশন হয়েছে দেখে পুরোনো কর্মি রেগে গিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রমোশন চাইলে তাকে করলে প্রোডাকটিভিটি বাড়াতে পরামর্শ দেয়া হয়। ভদ্রলোক তার পরিশ্রমের মাত্রা যথেষ্ট বাড়িয়েও দেখে প্রমোটেড ব্যাক্তির অর্ধেকও সে করতে পারছে না। তখন নতুন লোকটির কাছে সে জানতে চায় কঠোর পরিশ্রম করেও সে যা পারছে না, একই সময়ে কি করে ঐ ব্যক্তি তার প্রায় তিনগুণ করছে? তখন নতুন লোকটি তার কাছে জানতে চায় যে, কাজের মাঝে সে কতবার থামে? পুরোনো লোকটি বলে থামা কি! দুপুরের খাবার, এমন কি পানি খাওয়ার সময় পর্যন্ত নষ্ট করে সে ন। নতুন লোকটি বলে আমিতো তিন বার থামি। মানে? আমি তিন বার থামি, আর তিন বার করাতে ধার দেই। নীরবতার অনুশীলন বা, মেডিটেশন এমনই। এ চর্চা আমাদের চেতনাকে ধারালো করার সহজতম উপায়। বিষয়টি খুব সহজ করে বোঝাতে ট্রান্সিডেন্টাল মেডিটেশনের বিশ্ব প্রচারকর্তা মহাঋষি মহেশযোগী বলেছেন, “সময়ের অভাবে আগে ব্যাংকে না গিয়ে সরাসরি মার্কেটে চলে গেলে কোনো লাভ নেই। বরং মাত্র পাঁচ মিনিট ব্যাংকে সময় কাটিয়ে প্রয়োজনীয় অর্থ সঙ্গে নিয়ে গেলে সারা দিন শপিং করতে কোন অসুবিধা নেই। “
চিন্তাশীল মনের গভীরে যাওয়ার সর্বোত্তম উপায় হল নীরবতা ও মেডিটেশনের অনুশীলন করা। নীরবতা মানে শরীর, মন, আবেগ, বুদ্ধি ও অহংকার সব দিক থেকে নীরব হওয়া। নীরবতার সময় এমনকি আমাদের কাজ বা লক্ষ্যের কথাও মনে না করা। নিয়মিত নীরবতা অনুভব করার জন্য দিনে দু-বার কমপক্ষে আধা ঘন্টা সময় নির্ধারণ করা সবচেয়ে ভালো। এ কাজটি আমাদের মনকে পরিষ্কার করে এবং আমাদের হৃদয়ে বিশুদ্ধ চিন্তার জাগরণ ঘটার সুযোগ করে দেয়। এতে, আমাদের কাজ হয়ে উঠে মনোযোগী এবং স্বতঃস্ফূর্ত। আর মেডিটেশন, চিন্তার সকল স্তর অতিক্রম করে ব্যক্তিকে চিন্তার উৎসে নিয়ে যায়। এ চর্চা বুদ্ধিদীপ্ত কাজ করা ও জীবনে সাফল্যের একটি স্বাভাবিক ধারা অর্জনের ক্ষমতাকে উন্মোচন করে। এ ব্যপারে ট্রান্সিডেন্টাল মেডিটেশন কৌশল একটি অত্যন্ত সহজ ও প্রাকৃতিক উপায়। যেখানে ব্যক্তিকে কিছুই করতে হয় না। না শ্বাস নিয়ন্ত্রণ, না কোনো কল্পনা, না কোনো আবহসংগীতের সাহায্য, না কোনো নির্দেশনা শোনা। দিনে দু’বার ২০/২১ মিনিটের জন্য শুধু বসতে হয়। যা কিছু হওয়ার তা আপনা আপনিই হয়। একদম প্রকৃতির নিয়মে। কোনো চেষ্টা বা কোনো কিছু করা বরং এ কৌশলের বিপরীত। এটি একটি অনায়াস যোগ কৌশল। একজন প্রত্যায়িত ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের কাছে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে এটি শিখতে হয়। শরীর ও মনে এ কৌশল কতখানি কার্যকর প্রভাব ফেলতে পারে, এ নিয়ে গত প্রায় পঞ্চাশ বছরে প্রায় আটশ-এর বেশি বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়েছে ও বিশ্বসেরা প্রায় সব বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে এ নিয়ে গবেষণা পত্র প্রকাশিত হয়েছে। কৌশলটি শিখতে ও এ সম্বন্ধে আরো বিস্তারিত জানতে এ লিংকটিতে ক্লিক করুন। https://www.tm.org
পরিবর্তে, কঠোর পরিশ্রমের প্রভাবে মানষিক চাপ বা উদ্বেগ বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা হ্রাস এবং কাজের প্রতি সন্তুষ্টি কমে। এরই ফলে পৃথিবীর প্রায় ৪০% মানুষ আজ উদ্বেগ-অবসাদের রোগি। সাধারণতঃ দেখা যায়, অনেক মানুষ কঠোর পরিশ্রম করলেও খুব কমই সফল হন। আর যারা সফল হন তাদের মধ্যেও খুব অল্পসংখ্যক মানুষ সব দিক বিবেচনায় সাফল্য ও পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারে। অন্যদিকে বুদ্ধিদীপ্ত কাজে শরীর ও মনের পূর্ণ সমন্বয়ে জীবনের ভারসাম্য, ভালো কাজ, উন্নত আত্মসম্মান, ব্যতিক্রমী উৎপাদনশীলতা, বেশি আয় এবং কাজের সন্তুষ্টি লাভ করা যায়।
ধাপগুলোর অনুসরন প্রকৃয়াকে আরো গতিশীল ও ছন্দময় করতে সহজ সংযুক্তি:
জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য/লক্ষ্যগুলো নির্দিষ্ট করুন। উৎসাহব্যঞ্জক শব্দ যুক্ত করে অল্প কথায়, সহজ ভাষায় লিখে সঙ্গে রাখুন। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর দিনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কাজ ও রাতে ঘুমাবার আগে শেষ গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে এটি মনে করার চেষ্টা করুন ও পড়ুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন, উত্তর খুঁজুন এবং কল্পনায় দেখুন, এটি/এগুলো অর্জন করা কেন আপনার জন্য এতটা গুরুত্বপূর্ণ? এটি/এগুলো অর্জিত হলে আপনার ব্যাক্তিত্ব কেমন হবে? আপনার পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্টদের জীবনে কি কি শুভ পরিবর্তন ঘটবে? ইত্যাদি অত্যন্ত সহজভাবে ধীরে ধীরে সময় নিয়ে বিস্তারিত কল্পনা করার চেষ্টা করুন; যতক্ষণ ভালো লাগে ঠিক ততক্ষণ। মনের উপর একটুও চাপ দেবেন না বা জোর খাটানোর চেষ্টা করবেন না। বিশেষ কারো ক্ষেত্রে কল্পনায় নিজেকে সফল দেখতে প্রথম প্রথম কঠিন মনে হলেও ধীরে ধীরে সহজ হয়ে যাবে। কঠিন পাথরও সহজ জলের ধারায় কেটে যায়। সূতরাং হাল ছাড়ার কোনো কারণ নেই। নিয়মিত অভ্যাসে কল্পনায় আবেগ যুক্ত হবে, জয়ের আনন্দ অনুভব করতে শুরু করবেন এবং ধীরে ধীরে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবেন। (দিনের কাজের ফাঁকে সময় পেলে লক্ষ্যটি আবারও দেখতে/মনে করতে পারেন।) এবার দৃঢ়তার সঙ্গে মনে মনে ও সম্ভব হলে দ্বিতীয়বার নিজের কানে শোনার মতো করে আত্ব-কথনটি পড়ুন ও ধারাবাহিকভাবে একটিকে দিনের মূলভাব হিসেবে গ্রহণ করে সে টি-শার্টটি পরিধান করুন। পরিধান করা মানে, সচেতনভাবে গ্রহণ করা।
লক্ষ্য অর্জনে মন ও মস্তিষ্ককে প্রশিক্ষিত করতে
সাফল্যের নয়টি ধাপ অনুসরনে দৈনিক আত্ব-কথন
আপনার পক্ষে অর্জন করা সম্ভব বলে মনে হয় এমন বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করে তারিখ ও সময় নির্দিষ্ট করুন। লক্ষ্যটি এখানে লিখে রাখুন। কল্পনায় দেখা ও অনুভব করার চেষ্টা করুন যে, এটি অর্জিত হওয়ার পর আপনার পারিপার্শিক অবস্থা কেমন হয়ে উঠতে পারে? তখন অপনার প্রতি অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হতে পারে? যতটা সম্ভব বিস্তারিত দেখা ও অনুভব করার চেষ্টা করুন। ভোরে ঘুম থেকে উঠার পর দিনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কাজ ও রাতে ঘুমাবার আগে শেষ গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে মন ও মস্তিষ্কের এ ব্যয়ামটি করুন এবং লক্ষ্যটি সহ নীচের আত্বকথনটি পড়ুন।
1. DEFINITE GOAL-FOCUSED ATTENTION নির্দিষ্ট লক্ষ্য-নিবদ্ধ মনযোগ।
আমার লক্ষ্য নির্দিষ্ট; যা অদম্য ইচ্ছা দ্বারা সমর্থিত। আমার মনযোগ লক্ষ্য অর্জনে নিবদ্ধ। এ লক্ষ্য আমার ও এর ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত এবং প্রভাবিত সবার সর্বোচ্চ কল্যণে নিবেদিত। আমি সুযোগের অপেক্ষায় থাকার বদলে বরং নিজে সুযোগ সৃষ্টি করি।
2. FAITH & SELF-BELIEF বিশ্বাস ও আত্ম-বিশ্বাস।
আমি সব সময় শিখতে উন্মুখ। প্রতিনিয়ত শিক্ষা ও চর্চার ভেতর দিয়ে আমি নিজেকে যোগ্য করে তুলি। লক্ষ্যে পৌঁছুতে আমার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা আছে; যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমাগত সমৃদ্ধ হচ্ছে এবং আমি বিশ্বাস অর্জন করে চলেছি। নিজের উপর আমার আস্থা শতভাগ। আমি আত্ববিশ্বাসী। আমি জয়ী হওয়ার যোগ্য।
3. HONESTY, LOVE & PASSION সততা, ভালোবাসা ও আবেগ।
আমি চিন্তা ও কর্মে সৎ। আমি আমার কাজকে ভালোবাসি; আমি নিজেকে ও সমগ্র বিশ্বকে ভালোবাসি। আমি আমার স্বপ্ন জয়ে শক্তিশালী আবেগ অনুভব করি।
4. POSITIVE ACTION WITH HOPE & IMAGINATION
আশা ও কল্পনার সঙ্গে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া।
লক্ষ্যে পৌঁছুতে আমি প্রতিনিয়ত ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী। নিজেকে সফল কল্পনা করার মতো আমার একটি সুস্পষ্ট অন্তর্দৃষ্টি আছে, যা আমাকে প্রতি পদক্ষেপে প্রেরণা যোগায়।
5. HAPPINESS, JOY & PEACE সুখ, আনন্দ ও শান্তি।
খুশি থাকা আমার পছন্দ, আমি সবসময় সুখী। আনন্দ ও শান্তি আমার হৃদয়ের সুবাস।
6. SIMPLICITY, PATIENCE & COMPASSION সরলতা, ধৈর্য ও সহানুভূতি।
আমি চিন্তা ও কর্মে সহজ। ধৈর্যশীলতা আমার চরিত্রের একটি অন্যতম প্রধান গুণ। আমি নিজের ও সবার প্রতি সহানুভূতিশীল। আমি অন্যদের তাদের লক্ষ্যে পৌঁছুতে সাহায্য করার মাধ্যমে, নিজেকে সবার সাহায্য পাওয়ার যোগ্য করে তুলি।
7. GRATITUDE, GENEROSITY & FORGIVENESS কৃতজ্ঞতা, উদারতা ও ক্ষমা।
আমার যা কিছু আছে, আমি যা চাই এবং না চাইতে মহাবিশ্বের উদার ভান্ডার হতে যা কিছু পাই, তার জন্যে সবসময় সর্বোচ্চ কৃতজ্ঞতা অনুভব করি। আমি নিঃসংকোচে সৎ প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আমি সবার প্রতি উদার ও ক্ষমাশীল।
8. DEVOTION, DISCIPLINE & DILIGENCE নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও অধ্যাবসায়।
আমি নিষ্ঠাবান। আমি লক্ষ্য অর্জনে নিবেদিত। আমি চিন্তা ও কাজে সুশৃঙ্খল। আমি অধ্যাবসায়ী।
9. THINK DEEPLY-WORK SMARTLY গভীর চিন্তা-বুদ্ধিদীপ্ত কাজ,
DO LESS BUT ACCOMPLISH MORE অল্প শ্রমে অধিক অর্জন।
আমি নিজের সঙ্গে একাত্ম হতে, দিনে দুবার নীরবতা ও নিজের ভেতরের বিশালতায় ডুব দেয়ার অভ্যাস করি। এর মাধ্যমে চিন্তার সকল স্তর অতিক্রম করে তার উৎসস্থল এর অভিজ্ঞতা পাওয়ার মাধ্যমে বুদ্ধিদীপ্ত কাজ করার কৌশল রপ্ত করি। এভাবে অল্প শ্রমে অধিক প্রাপ্তির দক্ষতা আমার সাফল্যের প্রধান সূত্র।
আমি একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। আমি বিজয়ী।
বুদ্ধিদীপ্ত কাজ করার কিছু সহজ কৌশল:
সম্পূর্ণ নিখুঁত হওয়ার বদলে সময় মেনে কাজ করার কর্মকৌশল মেনে চলা:
বহু সফল মানুষের কর্ম কৌশল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, সফল হওয়ার জন্য পারফেকশনিস্ট হওয়া আবশ্যকতা নেই। বরং প্রতিটি কাজের জন্য একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করা ও এটাকে মেনে চলা এবং পরিকল্পিত সময়সীমাগুলোকে সম্মান করা আবশ্যক।
কেউ কেউ বলেন যে ধীরে চলা, গড়িমসি করা, সাফল্যের সবচেয়ে বড় শত্রু। এটি পরবর্তী সময়ে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোকে বিলম্বিত করতে অভ্যস্ত করে তোলে এবং কাজের মানকে বাধাগ্রস্ত করে। পরিবর্তে, এক সঙ্গে যদি কোনো কাজ অর্জন করা বেশ কঠিন মনে হয়, তাহলে ছোট ছোট সাবটাস্কের মধ্যে তাকে ভাগ করে নেয়া ভালো।
বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা:
সফল ব্যক্তিরা সংযোগের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন এবং যখন তাদের সাহায্যের প্রয়োজন হয় এখান থেকে তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেয়ে থাকেন।
বারবার করা:
ইতিহাসের মহান নেতারা সব সময় কোন কিছু আয়ত্ত করার জন্য বারবার কাজটির পুনরাবৃত্তির গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন। জোশ কাফম্যান বলেছেন যে, ”নতুন কিছু শিখতে মাত্র ২০ ঘন্টা সময় লাগে। আপনি যদি ২০ ঘন্টার মনোযোগী অনুশীলন করেন তবে সে বিষয়ে আপনি কতটা ভাল শিখতে পারেন, তা দেখে নিজেই অবাক হবেন।” শেক্সপিয়ার বলেছেন, “অনুশীলন নিখুঁত এবং স্থায়ী হয়”।
ফলাফলের কাছে আত্মসমর্পণ করা:
ফলাফলের উপর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিন, পূর্ণ আন্তরিকতা ও মনযোগের সঙ্গে কাজটি করে যান। কাজ করার সময় আপনার যে ইতিবাচক শক্তির স্ফুরণ ঘটেছে, প্রকৃতিতে তা আপনার সাফল্য নির্মাণে কাজ করছে। ফলাফল যাই হউক মেনে নিন। ব্যর্থ হলেও ছেড়ে দেবেন না। শেষ পর্যন্ত লেগে থাকুন। সাফল্য আপনার চাওয়ার থেকেও বড় হয়ে ধরা দিতে পারে। এটাই প্রকৃতির আইন।
পরিচিত গন্ডি বা আয়ত্বের বাইরের কাজ করা:
স্বস্তিদায়ক কাজের পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসাটাই একটি মহান অর্জন। তবে, তাড়াহুড়োর মধ্যে না গিয়ে, নিজের সামর্থকে চ্যালেঞ্জ করে প্রতিনিয়ত আরেকটু বেশি করার জন্য নিজেকে চাপ দিন। এমন কি কঠিন মুহুর্তে এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের সময়েও হাল ছেড়ে দেবেন না। যথাসাধ্য চেষ্টা করুন।
আমাদের ব্রেইন হচ্ছে একটি লক্ষ্য খোঁজার যন্ত্র। যেই মুহূর্তে আপনি তাকে লক্ষ্য দেন সে তা অর্জনে কাজ করতে শুরু করে। ব্রেইন সবচেয়ে ভালো কাজ করে যখন কোন কঠিন কাজের দায়িত্ব তাকে দেয়া হয়। কারণ আমাদের কাছে যা কঠিন ব্রেইনের জন্যে তা সাধারণ। মানুষের ব্রেইন হচ্ছে বিশ্বের সব থেকে শক্তিধর মেশিনের চাইতেও শক্তিশালী এক আশ্চর্য সৃষ্টি। এ তখনই কাজ করা থামিয়ে দেয় যখন আপনি হতাশ হন। আশা ছেড়ে দেন। বলেন, এ আমার পক্ষে সম্ভব না। সূতরাং শেষ পর্যন্ত আশাবাদী থাকুন। সফল হতে প্রয়োজনে নিজের পরিচিত গন্ডি বা আয়ত্বের বাইরের কাজে নিজেকে যুক্ত করুন। এতে সাফল্য আপনার কাছে সহজ ও স্বাভাবিক হবে।
এভাবে উপর্যুক্ত ধাপ/সূত্রগুলোর সহজ অনুসরণ, মনের পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যে কাউকেই তার অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছুতে সাহায্য করতে পারে। এ বৈশিষ্ট্যগুলো অনুসরণের জন্য আপনার সচেতনভাবে একটি মেজাজ গড়ে তোলার দরকার নেই। শুধুমাত্র এই পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে জেনে সূত্র উধৃত টি-শার্টগুলো ধারাবাহিকভাবে পরিধান করুন। চেষ্টাটিকে আরেকটু ছন্দময় গতিশীলতা দিতে, লক্ষ্য মনে করা ও আত্বকথনটি পরামর্শ অনুযায়ী দিনে দু’বার পড়তে পারেন। লক্ষ্য জয়ে প্রতিটি পদক্ষেপ-এ নয়টি ধাপ অনুসরণে নেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে সাফল্যের প্রাকৃতিক ধারা অর্জিত হবে এবং কঠোর পরিশ্রমের বদলে বুদ্ধিদীপ্ত শ্রমে বৈষয়িক সাফল্য, অন্তরে শান্তি ও পরিপূর্ণতা অর্জন সহজ হবে।
পণ্য হিসেবে টি-শার্টগুলো ২০০% উপযুক্ত। মানের দিক থেকে ১০০% ও ইতিবাচকতার দিক থেকে ১০০%। প্রখ্যাত শিল্পীর রংতুলিতে ফুটে ওঠা আকর্ষণীয় ছবি, টাইপোগ্রাফি, মানসম্পন্ন ছাপায়, পরিবেশবান্ধব জৈব পদ্ধতিতে আবাদকৃত তুলা থেকে প্রস্তুতকৃত সুতার বুননে সর্বোচ্চ মানের কাপড়, শিশুসহ সব বয়সীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত (GOAT Certified) জৈব রং, দক্ষ কর্মীর সেলাই, আন্তর্জাতিক অর্গানিক মান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান OEKO-TEX® Certified গার্মেন্টসে প্রস্তুত এ পণ্যগুলোর সব দিক থেকে সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করা হয়েছে।
আমরা বিশ্বাস করি, ” পৃথিবীর সবথেকে দামী ক্যানভাস, মানুষের বুক। অর্থপূর্ণ চিত্র এবং সুস্পন্দনশীল শব্দ এখানে সবথেকে ভালো মানায়।” আমরা এ ক্যানভাসের যথাযথ ব্যবহারের জন্য আন্তরিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সবাইকে সাফল্য অর্জনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করার মাধ্যমে নিজেদের সাফল্যের প্রাকৃতিক ধারা অর্জনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
প্রতিটি মস্তিষ্কের অসীম সম্ভাবনা প্রাকৃতিক ধারায় বিকশিত হউক। পরিপূর্ণ জীবনের আলোয় আলোকিত হউক পৃথিবী।
সুশান্ত শুভ
সহ-প্রতিষ্ঠাতা- মোটিভেশন প্লাস

Nice t-shirt