You are currently viewing কৃতজ্ঞতা, উদারতা ও ক্ষমা

কৃতজ্ঞতা, উদারতা ও ক্ষমা

যারা আমাদের সাহায্য করেন খোলা মনে তাদের প্রশংসা করা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, উদারতা ও ক্ষমাশীল হওয়া সাফল্য অর্জনের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কৃতজ্ঞতা সুখী হওয়ার সব থেকে শক্তিশালী উপায়।

উদারতা একটি স্বাভাবিক মানবীয় গুণ। অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকা ও সবাইকে সাহায্য করার মনোভাব নিজেকে অন্যের সাহায্য পাওয়ার যোগ্য করে তোলে।

ক্ষমা আসলে অন্য ব্যক্তির জন্য নয়, বরং নিজের হৃদয়ের সুস্থতার জন্যে প্রয়োজন। রাগ, বিরক্তি, প্রতিহিংসার অনুভূতিগুলো আমাদের হৃদ-যন্ত্রকে দুর্বল করে দেয়, শরীরের স্পন্দন শক্তি হ্রাস করে। সূতরাং ক্ষমা না করতে পারা নিজের সাফল্যে স্থায়ী বাধার সৃষ্টি করে। ক্ষমা হলো নিজেকে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেয়া, এগিয়ে যাওয়া, অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়া।

সূতরাং জীবনে সাফল্য ও এর স্বাভাবিক ধারা অব্যাহত রাখতে কৃতজ্ঞতা, উদারতা ও ক্ষমা করার গুণ অর্জন করার কোন বিকল্প নেই। নিজেকে এই বলে প্রেরণা দিন যে-

আমার যা কিছু আছে, আমি যা চাই এবং না চাইতে মহাবিশ্বের উদার ভান্ডার হতে যা কিছু পাই, তার জন্যে সবসময় সর্বোচ্চ কৃতজ্ঞতা অনুভব করি। আমি নিঃসংকোচে সৎ প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আমি সবার প্রতি উদার ও ক্ষমাশীল।

দিনের মূলভাব হিসেবে কৃতজ্ঞতা, উদারতা ও ক্ষমা শব্দ তিনটিকে চেতনায় গ্রহণ করে টি-শার্টটি পরিধান করুন। এটি সারাদিন আপনাকে কৃতজ্ঞতা, উদারতা ও ক্ষমার গুণগুলো অর্জনের কথা বার বার মনে করিয়ে দেবে। এতে ধীরে ধীরে এ গুণগুলো ধীরে ধীরে আপনার মন ও মস্তিষ্কে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেবে। যা আপনাকে সহজে, পরিপূর্ণভাবে সফল হতে সাহায্য করবে।   

কৃতজ্ঞতা একজন মানুষকে: সুখী, শান্তিপূর্ণ, কর্মজীবনে সফল, ইতিবাচক আবেগকে শক্তিশালী করা, ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করা ও আশাবাদী করে তোলে। এ আমাদের মৌলিক সুখ বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে এবং সহজে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

জীবনকে অনেকে প্রতিযোগিতা মনে করে। ফলে সুখ তাদের জীবনে অধরা থেকে যায়। একর পর এক বড় লক্ষ্য আসতে থাকে আর অস্থির হয়ে শুধু তার পেছনে ছোটে। এক সময় পেছনে তাকিয়ে দেখে জীবন ফুরিয়ে গেছে, অথচ অনেক কিছু আজো পাওয়া বাকী! জীবনকে আর উপভোগ করতে পারে না। জীবন দৌড় প্রতিযোগিতা নয়। প্রতিটি মানুষ আলাদা। প্রত্যেকের লক্ষ্য আলাদা। একই ধরণের হলেও আলাদা। সূতরাং প্রতিযোগিতা শুধু নিজের সঙ্গে। নিজের লক্ষ্য ও অর্জনের সঙ্গে। এক মাত্রা অর্জন শেষে আরো বড় মাত্রায় নিজেকে দেখতে চাওয়ার সঙ্গে। বাস্তবে বাইরের কারো সঙ্গে কারো কোন প্রতিযোগিতা নেই। আছে শুধু সহযোগ; দেয়া ও নেয়ার সম্পর্ক। এটাই সৃষ্টির অমূল্য রহস্য। জীবনকে উদার দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিৎ। এতে জীবন সহজ ও উপভোগ্য হয়ে উঠে। প্রতিটি জীব একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। কেউ কারো সাহায্য ছাড়া বাঁচতে পারে না। তাই সাহায্য চাইতে ও করতে সরল এবং উদার হওয়ার কোন বিকল্প নেই।   

একজন সুস্থ মানুষের শরীরের স্পন্দন মাত্রা/তরঙ্গ ৬২-৭০ মেগা হার্টজ। দুঃখ বয়ে বেড়ালে এটা হ্রাস পেতে শুরু করে। ফলে নানা ধরনের অসুস্থতা বিস্তারের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়। শরীরের স্পন্দন মাত্রা যখন ৪০ এর নীচে নেমে যায় তখন ক্যান্সার সেল বিস্তার লাভ করে। সূতরাং ক্ষমা করতে পারা সাফল্য অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

প্রখ্যাত গবেষক ও অনুপ্রেরণাদায়ী লেখক নেপোলিয়ন হিল তাঁর “থিংক অ্যান্ড গ্রো রীচ” বই এর আত্ম-প্রতিশ্রুতি অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন-

“আমি নিজের মনে সমস্ত মানবতার প্রতি ভালবাসা গড়ে তুলে ঘৃণা, হিংসা, বিদ্বেষ, স্বার্থপরতা এবং কুৎসা দূর করব। কারণ আমি জানি, অন্যের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব কখনই আমাকে সফল হতে দেবে না।”