সাফল্যের যাত্রীর জন্যে বিশ্বাস ও আত্ববিশ্বাস দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। দড়ির ওপর হাঁটতে থাকা মানুষের দুটো হাতে শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখার মতো। আমি সফল হওয়ার যোগ্য, এই বিশ্বাসই সাফল্যের আত্ববিশ্বাস। যে ক্ষেত্রে সফল হতে চাই, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষা গ্রহণ, বার বার চর্চা ও সফল হওয়ার সুস্পষ্ট পরিকল্পনার ভেতর দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করতে হয়। আর আত্মবিশ্বাস হলো, আমি যোগ্য, আমি পারবো, এই বিশ্বাস। নিজেকে এই বলে প্রেরণা দিন যে-
আমি সব সময় শিখতে উন্মুখ। প্রতিনিয়ত শিক্ষা ও চর্চার ভেতর দিয়ে আমি নিজেকে যোগ্য করে তুলি। লক্ষ্যে পৌঁছুতে আমার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা আছে; যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমাগত সমৃদ্ধ হচ্ছে এবং আমি বিশ্বাস অর্জন করে চলেছি। নিজের উপর আমার আস্থা শতভাগ। আমি আত্ববিশ্বাসী। আমি জয়ী হওয়ার যোগ্য।
দিনের মূলভাব হিসেবে বিশ্বাস ও আত্ববিশ্বাস বাক্যটিকে দিনের মূলভাব হিসেবে গ্রহণ করে টি-শার্টটি পরিধান করুন। এটি সারাদিন আপনাকে বিশ্বাস অর্জন করতে ও আত্ববিশ্বাসী হয়ে উঠতে উৎসাহ যোগাবে। বার বার আপনাকে মনে করিয়ে দেবে, আপনার মনে রাখার প্রচেষ্টা ছাড়াই।
সাধারণত পরিবারে বয়োজ্যেষ্ঠদের মুখে বারবার শুনতে পাওয়া নেতিবাচক কথাবার্তা ও দমিয়ে রাখার চেষ্ঠা এবং সমবয়সী অন্যদের সঙ্গে তুলনা করে অযোগ্য প্রমাণ করার চেষ্টার ফলে শৈশবেই শিশুর আত্ববিশ্বাস নড়বড়ে হয়ে যায়। মনের মধ্যে গেঁথে যায় যে, সে সম্ভবত যোগ্য নয়। এ মনোভাব সারাজীবন তাকে মনের ভেতরে দুর্বল করে রাখে। এটা কাটিয়ে উঠতে স্ব-প্রেরণা ভীষণ কার্যকর। যেমন- মনে মনে বার বার বলা, আমি যোগ্য। আমি আত্ববিশ্বাসী। যদি বিশ্বাস অর্জন করা যায়, আর নিজের উপর আত্ববিশ্বাস থাকে বা তৈরী করা যায়, তবে দড়ির উপর হেঁটেও কঠিন পথ অতিক্রম করা যায়। যে কোনো লক্ষ্য অর্জনে নিজেকে যোগ্য করে তোলা ও আমি সফল হবো এ আত্ববিশ্বাস, সফল হওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
যেখানে আলো আছে, সেখানে অন্ধকারের অস্তিত্ব নেই। বিশ্বাস এবং ভয়ের ক্ষেত্রও এমনই। যখন বিশ্বাস অর্জন হয়, ভয় আপনি মিলিয়ে যায়। ভয় বাইরের বিষয় নয়; মনের দুর্বলতা। বিশ্বাসের অভাব, মানে ভয়। বিশ্বাস অর্জন করতে প্রয়োজন জ্ঞান। সাফল্য অর্জনে যার অদম্য ইচ্ছা, লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার যথেষ্ট শিক্ষা গ্রহণ ও অনুশীলনের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করা প্রয়োজন। আর এ শিক্ষাকে বাস্তবে কাজে লাগাতে গিয়ে ভুলগুলোকে গ্রহণ করা ও ভুল থেকে শিক্ষা নেয়া এবং সবসময় শিখতে উন্মুখ থাকা প্রয়োজন। সঙ্গে প্রয়োজন, সঠিক ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। একজন স্বাপ্নিক ও স্বপ্নদ্রষ্টার পার্থক্য এখানেই। যে স্বাপ্নিক সে শুধু স্বপ্ন দেখে আর দৈব কোনো সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু যে স্বপ্নদ্রষ্টা, স্বপ্ন বাস্তবায়নে তার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে তা সমৃদ্ধ করতে থাকে ও এগিয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও পরিকল্পনায় সমৃদ্ধ হতে হতে একজন মানুষ বিশ্বাসের শক্তি অর্জন করে।

বিশ্বাসে মিলায় বস্তু। তর্ বহুদূর।
বিশ্বাসে মিলায় বস্তু। তর্কে বহুদূর।