নিষ্ঠা মানে, গভীর বিশ্বাসে কোনো কিছুর প্রতি উৎসর্গীকরণ। একে সমর্পণ বলে। আমরা যদি কোন কিছু করার জন্য নিজেকে নিবেদিত করি, তাহলে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সব সময় উন্মুক্ত থাকবো। সফল হতে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় প্রতিনিয়ত নিজেকে যোগ্য করে তোলা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। নিষ্ঠা অর্জনের সহজ উপায় হলো, আমরা যখন যে কাজটি করবো সম্পূর্ণ মনযোগ তাতে রাখবো। এতে নিশ্চিতভাবেই কাজে সন্তুষ্টি আসবে। এর জন্যে বিশুদ্ধ নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা এবং অধ্যাবসায়ী হয়ে লেগে থাকার কোনো বিকল্প নেই।
শৃঙ্খলা এমন কিছু নয় যা নিয়ে আমরা জন্মগ্রহণ করেছি। তবে, চাইলে প্রত্যেকেই সুশৃঙ্খল হওয়া শিখতে পারি। যে কোনও ক্রীড়াতারকা, চলচ্চিত্রতারকা, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও আধ্যাত্মিক নেতাদের প্রত্যেকের এ গুণটি রয়েছে বলেই তাঁরা তাঁদের লক্ষ্যে সফল হতে পেরেছেন।
কোন লক্ষ্যই রাতারাতি অর্জন করা যায় না। বীজ বপন করে তাকে বাড়তে সময় দিতে হয়। প্রকৃতি চলে প্রকৃতির আইনে। শিউলি ফুটতে যেমন শরৎ, কৃষ্ণচূড়ার জন্য ফাল্গুণ আর জারুলের জন্য বর্ষা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, একই নিয়মে প্রতিটি লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ধৈর্য ধরে লেগে থাকার কোনো বিকল্প নেই। সাফল্য হচ্ছে বহু ব্যর্থতার পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এভারেস্ট। চাকা আবিষ্কার থেকে শুরু করে মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি প্রকল্পসহ সব নতুন মাইল ফলক রচনাকারীদের সফল হওয়ার পেছনে হাল ছেড়ে না দেয়ার একই গল্প নানারকম ভাবে ছড়িয়ে আছে।
তাই সাফল্যের স্বাভাবিক ধারা অর্জনে নিষ্ঠা, শৃংখলা ও অধ্যাবসায়ের গুণ অর্জন করার কোনো বিকল্প নেই। নিজেকে এই বলে প্রেরণা দিন যে-
আমি নিষ্ঠাবান। আমি লক্ষ্য অর্জনে নিবেদিত। আমি চিন্তা ও কাজে সুশৃঙ্খল।আমি অধ্যাবসায়ী।
দিনের মূলভাব হিসেবে নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও অধ্যাবসায় শব্দ তিনটিকে চেতনায় গ্রহণ করে টি-শার্টটি পরিধান করুন। এটি সারাদিন আপনাকে নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও অধ্যাবসায়ের গুণগুলোর কথা বার বার মনে করিয়ে দেবে, মনে রাখার প্রচেষ্টা ছাড়াই। এতে এ গুণগুলো ধীরে ধীরে আপনার মনের গভীরে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেবে। যা আপনাকে প্রাকৃতিক নিয়মে, পূর্ণভাবে সফল হতে সাহায্য করবে।
অস্থির সমুদ্রে পূর্ণিমার চাঁদ বহু খন্ড দেখায়। অথচ সুস্থির জলাশয়ে পূর্ণ চাঁদের মহিমা প্রকাশ পায়। তেমনি বিশৃঙ্খল মন সব সময় অস্থির। অস্থির মনের দূরদৃষ্টি থাকে না। সে লক্ষ্য দেখতে অস্বীকার করে। এ বিষয়ে সহজ কথায়, আব্রাহাম লিঙ্কন বলেছেন, “শৃঙ্খলা হল আপনি এখন যা চান এবং সবচেয়ে বেশি যা চান তার মধ্যে একটিকে নির্বাচন করা।” সুশৃঙ্খল অবস্থায় আমরা যে অসুবিধা অনুভব করি তার একটি অংশ হল আমাদের মনের উপর নিয়ন্ত্রণ। আমরা এই প্রক্রিয়াটির উপর আস্থা হারিয়ে ফেলি কারণ মন নিয়ন্ত্রণে আমরা বারবার ব্যর্থ হতে থাকি, এবং এক পর্যায়ে হতাশ হয়ে পড়ি। নিজের প্রতি এতখানি কঠোর হওয়ার প্রয়োজন নেই। সর্বোপরি, মনকে নিয়ন্ত্রণ করা একটি অন্যতম কঠিন কাজ। তবে চিন্তা ও কাজে সুশৃঙ্খল হওয়ার অভ্যাস করা এর সহজ প্রতিষেধক। নীরবতা ও মেডিটেশন বা যোগ এ ব্যাপারে আমাদের বিশ্বস্ত সহযোগী হতে পারে।
সময়মতো পানি ও সার দেয়া, পর্যাপ্ত আলো যাতে পায় সে ব্যবস্থা করে, প্রয়োজনীয় যত্ন অব্যাহত রেখে আমরা শুধু বৃক্ষকে বড় হওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারি। বৃদ্ধি, পরিপূর্ণতা ও যা যা হওয়া দরকার, তা আপনা আপনিই হবে। একইভাবে পরিশ্রমের প্রকৃত অর্থ বিশ্রাম বাদ দিয়ে চব্বিশ ঘণ্টা নিজেকে কর্মব্যস্ত রাখা নয়, বরং বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতার সঙ্গে নিদিষ্ট সময়ে প্রয়োজনীয় কাজটি করা। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেয়া। কোন অবস্থাতে ছেড়ে না দেয়া।
অধ্যাবসায়-এর এক সমসাময়িক উদাহরণ হলেন বিশ্বখ্যাত উদ্যোক্তা- ইলন মাস্ক। পর পর তিন বার ব্যর্থ হয়ে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার বিফল উড্ডয়নে নষ্ট হওয়া ও তাঁর বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রতিষ্ঠান টেসলার ব্যর্থতার পর ইলন মাস্ক চতুর্থবার রিস্ক নেন স্পেসএক্স ও টেসলা এর সাফল্যের লক্ষ্যে। এত বড় আর্থিক ক্ষতির পর শেষ ৪০ মিলিয়ন ডলারের অর্ধেক টেসলা ও অর্ধেক মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এ বন্টন করে ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা, চিন্তা ও কাজের শৃঙ্খলা এবং সফল না হওয়া পর্যন্ত ছেড়ে না দেয়ার জিদকে উন্নত রেখে আবারো তাঁর মূলধনের শেষটুকু বিনিয়োগ করেন মঙ্গলের উদ্দেশ্যে তার স্পেসএক্স এর রকেট যাত্রা ও পৃথিবীর প্রথম দ্রুতগামী বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরী ব্যবসায়। এবার তিনি সফল হন। এ সময় সে রকেটের সফল উড্ডয়ন দেখে তাঁর চোখে মুখে যে প্রশান্তির আলো ছড়িয়ে পড়ে, চাইলে সাফল্যের এ প্রশান্তি সবাই অর্জন করতে পারেন। তবে তার আগে ব্যর্থতার কঠিন পরীক্ষায় হাল ছেড়ে না দেয়ার গুণটি অর্জন করতে হয়। টেসলাও আজ একটি অন্যতম জনপ্রিয় গাড়ির ব্র্যান্ড এবং এ দুটো প্রকল্পের সাফল্যে আজ তিনি পৃথিবীর সর্বোচ্চ ধনী।
